ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার একটি রাস্তার ধারে পড়ে ছিল চিতাবাঘ। সবাই মনে করেছিল চিতাবাঘটি মারা গেছে। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে অনেকেই তাই সঙ্গে থাকা মোবাইল নিয়ে চিতাবাঘের বেশ কিছুটা কাছেই চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ ভাবতেই পারেননি পরিণতি এমন ভয়ংকর হতে পারে।

মোবাইল হাতে এগোতেই এক যুবকের দিকে তেড়ে যায় চিতাবাঘটি। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার কারণে তেড়ে গেলেও সে অর্থে দৌড়তে পারেনি সে। ফলে কোনোক্রমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন ওই ব্যক্তি।

জানা গেছে, সোমবার সকাল ৮টার দিকে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বীরপাড়ায় জাতীয় সড়কের কাছে শালধুয়া এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিল চিতাবাঘটি। সেই সময় একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে জখম হয় চিতাবাঘটি।

এরপরই আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়েছিল। কলকাতার সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বীরপাড়া শালধুয়া এলাকায় রাস্তার পাশে চিতাবাঘটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

ছবি তুলতে গেলে আহত অবস্থাতেই এক ব্যক্তিকে তাড়া করে চিতাবাঘটি। খবর পেয়ে বনদফতরের কর্মীরা গিয়ে চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে। বনদফতরের কর্মীদের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রতিদিন জানায়, আহত চিতাবাঘটি পূর্নবয়স্ক ও স্ত্রী।

ইতিমধ্যেই জলদাপাড়ার দক্ষিণ খয়েরবাড়ি চিতাবাঘ পুনর্বাসন কেন্দ্রে জখম প্রাণীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তবে এখনও ঘাতক লরির কোনো হদিশ পায়নি বন দফতরের কর্মকর্তারা। দলগাঁও ফরেস্টের রেঞ্জার রাজীব দে বলেন, চিতাবাঘটি গুরুতর জখম হয়েছে। ফালাকাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আমরাও এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। সোমবারের ঘটনার পর ফের জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন বন্যপ্রাণপ্রেমীরা। তাদের অভিযোগ, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জেরেই এই পরিস্থিতি।

আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের সদস্য অমল দত্ত বলেন, জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতিতে হ্রাস না টানা হলে উত্তরবঙ্গে একের পর এক বন্যজন্তুর মৃত্যর খবর পাওয়া যাবে। এর আগে গাড়ির ধাক্কায় উত্তরবঙ্গে একাধিক বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।

কিন্তু যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। তারা সংবাদ প্রতিদিনকে আরও বলেন, অভিযোগ জানিয়ে যখন কোনো কাজ হয়নি, তখন প্রয়োজনে আমরা আদালতে যাব। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতেই হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here