আব্দুল কাদের, কালিগঞ্জ(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ কালিগঞ্জ উপজেলায় ইত্তেহাদ ইসলামী মাল্ট্রিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং ইত্তেহাদ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে গ্রাহকের সঞ্চয় এবং ৪ বছরের দ্বিগুন টাকা দেওয়ার প্রতারনার ফাঁদে ফেলে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রউফ চক্রের সদস্যরা। এই ফাঁদের শিকার হয়ে বাজারগ্রাম রহিমপুর গ্রামের মৃত শেখ শাহাবুদ্দীনের স্ত্রী দিন মুজুর এনেছা বেগম ও তার প্রতিবন্ধী পুত্র আছানুর ওরফে ডংকর লাখ টাকা হারিয়ে বিচারের দাবীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, থানার ওসি এবং সমবায় অফিসারের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। টাকা চাইতে গিয়ে এনেছা বেগম কে গত ১৬ অক্টোবর বেধড়ক পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে রউফ এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী। মাল্ট্রিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং সমবায় সমিতির লিমিটেড এর নামে সাধারণ মানুষ ঠাকনোর প্রতারনার ব্যবসা সম্পর্কে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মুজিবর রহমান কিছুই জানেন না বলে তিনি জানান। তবে উপজেলা জুড়ে ১৯৪টি সমায় সমিতি এবং ১০৩টি বি,আর,ডি,বি সমবায় সমিতি ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠলেও প্রতারনার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন বলে এ প্রতিনিধি কে জানান। প্রতিবছর ঐসমস্ত সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা নগদ নারায়ন দিয়ে কাগজে কলমে অডিট রিপোর্ট পাশ করিয়ে নিলেও থলের কালো বিড়াল সম্পর্কে জেনেও তারা না জানার ভান করে বসে আছে। উপজেলা সমবায় অফিসের একটি সুবিধা নারায়নভোগী চক্র প্রতিনিয়ত এই কাজের সহযোগীতা করছে বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভুক্তভোগী এনেছা বেগম জানান কালিগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রাম রহিমপুর গ্রামের মৃত শহর আলীর পুত্র আব্দুর রউফ ২০১৪ সালে ইত্তেহাদ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ নামে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত সমবায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলে একটি সমবায় সমিতি গঠন করে। বাজারগ্রাম রহিমপুর গ্রামে তাদের বাড়ির পার্শ্বে ইত্তেহাদ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি এবং ইত্তেহাদ ইসলামী মাল্ট্রিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ দিয়ে ২টি সাইনবোর্ড উঠিয়ে জাক জমকপূর্ণ অফিস সাজিয়ে কাজ শুরু করে। পরে সেটা উপজেলা এবং জেলা সমবায় সমিতি অফিস কে ম্যানেজ করে দ্রুত গত ২২/০৫/২০১৪ইং তারিখে রেজিষ্ট্রেশন লাভ করে রেজিঃ নং-১০০/সাত। উক্ত সমবায় সমিতির সভাপতি হিসাবে প্রতারক আব্দুর রউফ ও সাদপুর গ্রামের সামছুর রহমানের পুত্র মাসুদুর হাসান সহ সভাপতি রউফের ভাই সাইফুল ইসলাম কে সাধারণ সম্পাদক, চাচাতো ভাই শেখ সাইদুল ইসলাম ক্যাশিয়ার এবং রফিকুল ইসলাম, সাইদুর ইসলাম কে সদস্য করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। সমিতির পরিচালনার জন্য উত্তর শ্রীপুর গ্রামের বশির মাষ্টারের পুত্র ওলিউর রহমান কে ম্যানেজার নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের নিকট হতে ৫০০/১০০০ ও তার অধিক টাকা স য় সংগ্রহ করে শত শত অসহায় গরীব নিরীহ মানুষ কে সদস্য পদ লাভ করায়। এই ভাবে স য় জমার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা সমিতির নামে জমা করে। পরবর্তীতে ১ লক্ষ টাকায় ৪ বছরে দিগুনের প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে শত শত মানুষের নিকট হতে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে প্রতারক নিজে ধরাছোয়ার এবং আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাতে গত ২৯/০৩/১৮ইং তারিখে সমিতির অডিট করিয়ে নিজে নাম প্রত্যাহার করে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে অনুমোদন করায়। নিজে নতুন কমিটি অনুমোদন করিয়ে আরও একটি সংশোধিত রেজিঃ নং পাশ করিয়ে নেয়। যার রেজিঃ নং-৩৪/সাত। এরপরে অফিসের সাইনবোর্ড খুলে অফিস বন্ধ করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে রউফ নিজের দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু করে। লোক জন তাদের জামানতকৃত টাকা ফেরত এবং দিগুন টাকা চাইলে সে লাপাত্তা হয়ে ঢাকায় চলে যায়। ঢাকা হতে ফিরে আসলে গ্রাহকরা তার নিটক টাকা চাইতে গেলে সে গ্রাহকদের মারপিট সহ নানা ধরনের হুমকি দিয়ে চলেছে। প্রতারক রবিউল ইত্তেহাদ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ ছাড়াও আরও একটি রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ইত্তেহাদ ইসলামী মাল্ট্রিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে মানুষের নিকট রশিদ দিয়ে টাকা সংগ্রহ করলেও অফিসে যেয়ে ইত্তেহাদ ইসলামী মাল্ট্রিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এর কোন খোজ মেলেনি। অনুসন্ধানের দেখা গেছে এনেছা বেগম কে ০৮/০৮/২০১৫ তারিখে সদস্য ফরম পুরন করে করে সদস্য অর্ন্তভুক্ত করে ইত্তেহাদ ইসলামী মাল্ট্রিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ফাইনাল মানি রিসিটে ৪৫ হাজার টাকা উক্ত তারিখে ৪ বছরে দ্বিগুন হওয়ার নামে গ্রহন করে। গ্রহন করে রশিদ প্রদান করে। অপর দিকে ইত্তেহাদ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে গত ৩০/১১/২০১৪ তারিখে সদস্য ফরম পুরন করিয়ে এনেছা বেগম কে সদস্য অর্ন্তভুক্ত করে ইত্তেহাদ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির রশিদে আমানাত এফডিএস নামে ৪ বছরের দ্বিগুন এই মর্মে ৫০ হাজার টাকার আরও একটি রশিদ প্রদান করেন। উক্ত টাকার আবারও ইত্তেহাদ ইসলামী মাল্ট্রিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এর রশিদে গত ৩০/১১/২০১৪ ইং তারিখে ৫০ হাজার টাকার আরও একটি রশিদ প্রদান করেন। টাকার মেয়াদ পূর্তি হওয়ায় এনেছা বেগম টাকা চাইলে গেলে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। এনেছা বেগম এসংক্রান্ত বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ দিলে বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানার উপ সহকারী পরিদর্শক মোজাফফার হোসেন কে দায়িত্ব দিলে তিনি রহস্য জন কারণে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে কোন আইন গত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী এনেছা বেগম তার প্রতিবন্ধী পুত্র কে নিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে টাকা ফেরত এবং বিচারের আশায় ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। উপজেলা জুড়ে এই ভাবে ব্যাঙের ছাতার মত সমবায় সমিতি গড়ে তুলে সাইনবোর্ড টানিয়ে নাম মাত্র কয়েক জন সদস্য অর্ন্তভুক্ত করে সমবায় অফিসে অডিট ঠিক রেখে ভিতরে মাইক্রোক্রেডিট এর কাজ পুরাদমে চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সুদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উপজেলা জুড়ে ঋণ প্রদানের নামে সদস্য সংগ্রহ করে মাইক্রোক্রেডিট এর মত ঋণ বিতরণ করে সরকার কে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বিঞ্চত করছে। এব্যাপারে জেলা সমবায় অফিসার এবং জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে উপজেলা বাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here