কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এবার সাংবাদিককে পেটালেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক। এর আগেও নারী ও পুরুষ ইউপি সদস্যসহ ইউএনও অফিসের কম্পিউটার অপারেটরকে পেটানোর অফিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একের পর এক অন্যায় কর্ম করেও কোন প্রতিকার না হওয়ায় এই চেয়ারম্যান এবার প্রকাশ্য রাস্তায় সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা যায়, বাংলা রিপোর্ট এর স্টাফ রিপোর্টার ও মাছরাঙা টিভির সাবেক সাংবাদিক আল্লামা ইকবাল অনিক’র পিতা আউয়াল মিয়া কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হকের কাছে সরকারের বিনামূল্যে সার-বীজ প্রণোদনার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান তার সাংবাদিক ছেলেকে অর্থ দিয়েছেন বলে মিথ্যা অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজারহাট কফি হাউজে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে আসেন সাংবাদিক আল্লামা ইকবাল অনিক। এসময় চেয়ারম্যান জানান ইয়ার্কি করে তিনি একথা বলেছেন। এনিয়ে দুজনের মধ্যে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে অনিককে কফি হাউজের বাইরে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় কোমড়ের বেল্ট খুলে বেধড়কভাবে পেটান চেয়ারম্যান এনামুল হক। এসময় মাথায় আঘাত পেয়ে মাথা ফেটে যায় সাংবাদিক অনিকের। তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হলে সেখানেও চেয়ারম্যানের লোকজন সাংবাদিক অনিক ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন হুমকী-ধামকী দেন বলে অভিযোগ করা হয়। ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করতে না পেরে রাজারহাট থানায় সহযোগিতার জন্য ফোন করা হলে পুলিশ আসার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিক অনিককে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগেও রাজারহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চেয়ারম্যান এনামুল হক সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা বেগম, পুরুষ সদস্য বিপ্লব এবং রাজারহাট উপজেলা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মিলনকে মারধোর করেন। এর বাইরেও সাধারণ মানুষদের গায়েও হাত তোলার অভিযোগ রয়েছে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। কেউ প্রতিবাদ না করায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চেয়ারম্যান এনামুল হকের কর্মকান্ড। প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধাচারণ করার সাহস পায় না কেউ। ফলে একের পর এক অন্যায় কাজ করেও পার পেয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
সাংবাদিক অনিক ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা শেষে সবশেষ মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন।
অনিকের বাবা আউয়াল হোসেন জানান, আমি গতকাল রাতে গম বীজ চাইলে চেয়ারম্যান বলেন আপনার ছেলেকে টাকা দিয়েছি; সেখান থেকে গম বীজ কিনে নেন। আজ সকালে ছেলেকে ঘটনাটি জানাই। পরে সে এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান তাকে পিটিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে অনিকের বাবা ঠাট্রা করে আমার কাছে গম বীজ চান। তাই আমিও তার বাবার সাথে ঠাট্টা করি। আজ সকালে আমি কফি হাউজে গেলে তার ছেলে অনিক আমার সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। আমার সাথে উদ্ধত আচরণ করায় আমি রাগ সামলাতে না পেরে তার গায়ে হাত তুলি।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিনুর রহমান সরদার শিপন জানান, রোগী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাথায় যখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার মাথায় তিনটি সেলাই পরেছে। সেগুলো এক ইঞ্চি থেকে দেড় ইঞ্চি লম্বা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কৃঞ্চ কুমার সরকার জানান, ফোন পেয়ে সেখানে ফোর্স পাঠাই। তিনি বাড়ীতেই ছিলেন। সেখানে কোন লোকজন ছিল না। পরে পরিবারের লোকজন তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here