মোঃ রফিক হাসান তুহিন

তিনবার কবুল বলে শুধুই স্বামী হয়ে ওঠা যায় কিন্তু আদর্শ স্বামী হয়ে ওঠা অনেক কঠিন। স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা, ভালবাসার মধ্যে দিয়ে সংসার সুখের হয়।

কখনো কোন পুরুষ কি ভেবে দেখেছেন আপনি আপনার স্ত্রীর কাছে শুধুই একজন সাত পাকে বাঁধা স্বামী নাকি আদর্শ স্বামী। অনেক পুরুষ কিন্তু আদর্শ স্বামী হবার জন্য প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেই না বরং নূন্যতম চেষ্টাও করে না। সংসার কোন তামাশার বিষয় নয়। ছোট বড় প্রতিটি বিষয়ে থাকতে হবে আপনার নজরদারি, শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা। একটু চেষ্টা করুন আপনি‌ হয়ে উঠবেন স্ত্রীর কাছে পৃথিবীর সেরা আদর্শ স্বামী। কিছু বিষয় গুরুত্ব দিলেই পথ অনেক ‌সহজ হবে।

স্ত্রীর প্রতি যত্নবান হতে হবে:
সংসারে স্বামী শুধুই একজন কর্তা কিংবা অভিভাবক হয়ে থাকবে এমন চিন্তা ছেড়ে দিতে হবে। একজন পুরুষ কিন্তু দুর্বল নয়। স্ত্রীর প্রতি কোন রকম খবরদারি না করে তার প্রতি যত্নবান হোন, কি চাইছে সেটি মুখে বলার আগে বুঝে নিন, স্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা বোঝার চেষ্টা করুন এবং পরিপূর্ণতা দিন বুঝিয়ে দিন এসবে পুরুষ কতটা সক্ষম। আপনার প্রতিটি কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিন আপনি একজন আদর্শ স্বামী যেন সে আপনার জন্য নিজেকে ধন্য মনে করে।

স্ত্রীর সুরক্ষা দিন:
বাবা মা সন্তান কে পৃথিবীর আলো দেখায় কিন্তু একটা মেয়ের নির্ভরতা কিন্তু সম্পুর্ন তার স্বামীর উপর। স্বামীর পাশে থাকা স্ত্রী কে বেঁচে থাকতে সাহস দেয় মনে করে তাকে জীবন দিয়ে হলেও স্বামী রক্ষা করবে। স্ত্রীর ছোট বড় সব সমস্যায় পাশে থাকা স্বামীর দায়িত্ব। মনে রাখতে স্ত্রী কে সুরক্ষা দেওয়া পুরুষত্বের পরিচায়ক।

স্ত্রীকে প্রচন্ড ভালবাসুন:
ভালোবাসাও কিন্তু প্রমান চায়, স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে হবে তিনিই স্বপ্নের রাজকন্যা। ভালোবাসা অনুভবের বিষয় ফাঁকি দিলে স্ত্রী হয়তো চুপ থাকবে কিন্তু নীরবে কাঁদবে অনেক বেশি। আদর্শ স্বামী অবশ্যই স্ত্রীকে পাগলের মতো ভালবাসবে।

শিশুসুলভ আচরণ করা যাবে না:
আচরণে স্ত্রী যেন বুঝতে না পারে সে একটা শিশু লালন পালন করছে। দ্বায়িত্বে অবহেলা চলবে না। কথায় কথায় অপ্রয়োজনীয় অভিমান স্ত্রীকে বিরক্ত করতে পারে। নির্ভরতার আস্থা অর্জনে শতভাগ সফল হতে হবে।

স্বামী স্ত্রীর যোগাযোগ:
যোগাযোগ বিষয়টা হয়তো অস্বাভাবিক মনে হবে‌ কিন্তু আদর্শ স্বামী হয়ে উঠতে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।‌রাতের বেলা মোবাইল টিভি সবকিছু বাদ দিয়ে কিছু সময় স্ত্রীকে দিতে হবে, নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি থাকলে সেটা আলোচনা করে নিতে হবে। স্ত্রীর কথা যদি অযৌক্তিক হয় তবুও সব কথা আগে শুনতে হবে এরপর অবস্থান পরিস্কার করতে হবে। কোন অবস্থায় চেঁচামেচি না করাই উত্তম। স্ত্রীর সাথে জীবনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং তার ‌পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।

রোমান্টিকতা থাকতে হবে:
স্ত্রীর অবস্থান শুধু শরীরে নয়, শরীর মন জুড়ে তার বসবাস। মন থেকে স্ত্রীকে ভালবাসতে হবে। স্ত্রীর ভালো গুনাবলি গুলো কানের কাছে বারবার বলতে হবে। স্ত্রীকে সময় দিতে হবে, তার পছন্দ এবং ইচ্ছে গুলো জানতে চেষ্টা করতে হবে। মাঝে মাঝে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে। রোমান্স শুধু চার দেয়ালের মধ্যে নয় বরং ছড়িয়ে দিতে হবে পৃথিবী জুড়ে।

ইসলামে আদর্শ স্বামী:
স্বামী-স্ত্রী একে অন‍্যের অর্ধাঙ্গ। মানুষ যেমন তার অর্ধেক অঙ্গ নিয়ে পরিপূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারে না, একজন সু-পুরুষ কখনো স্ত্রী ছাড়া পূর্নাঙ্গ মানুষ হতে পারে না। একমাত্র আদর্শ স্বামী স্ত্রীকে পরিপূর্ণ করতে পারে। স্বামীর বাড়ির লোকজন যত খারাপই হোক, স্বামী যদি স্ত্রীকে বুঝতে পারে, স্ত্রীকে ভালবাসা দিয়ে পূর্ণ করতে পারে তবেই সংসারে অনাবিল সুখ আসবে। হাদিসে এসেছে “তিনিই তোমাদের মধ্যে উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম” [ইবন মাযাহ: হাদিস নং ১৯৭৭] কি কি কাজ করলে ইসলামে আদর্শ স্বামী হওয়া যায-
১. স্ত্রীর কাজে সহযোগিতা করা।
২. বাড়িতে নিজের কাজ নিজে করা।
৩. স্ত্রীকে যথাযথ সম্মান দেওয়া এবং পরিবারের প্রতিটা কাজে তার সীদ্ধান্ত নেওয়া
৪. স্ত্রী ও পরিবারের সাথে সুন্দর আচরণ করা।
৫. স্ত্রীর উপর অযথা রাগ না করা, স্ত্রী রেগে গেলে ধৈর্য ধারণ করা।
৬. প্রেম ও রোমান্টিকতা থাকতে হবে।
৭. স্ত্রীকে সু-উপদেশ দেওয়া এবং বুঝানো।
৮. স্ত্রীর পরিবার কে আপন করে নেওয়া।
৯. সন্তানের প্রতি যত্নবান হওয়া
১০. স্ত্রীকে পর্দায় রাখা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here