যশোরের মণিরামপুর উপজলোর দিগঙ্গা কুচলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে এসে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (২১ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

পরে স্থানীয়রা ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত দুই জনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

তারা হলেন- উপজেলার কুচলিয়া গ্রামের শুভংকর সরকার ওরফে কালিপদের ছেলে কমলেশ সরকার (২৩) ও শ্রীপুর গ্রামের হরেন মন্ডলের পুত্র প্রশান্ত মন্ডল (২৫)।

এছাড়াও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুইজন। বর্তমানে ওই দু’জন আত্মগোপনে রয়েছে। তারা হলেন- কুচলিয়া গ্রামের কার্তিক মন্ডলের ছেলে সুদীপ মন্ডল (১৭) ও নেবুগাতি গ্রামের প্রশান্ত মল্লিকের ছেলে সত্যজিৎ বিশ্বাস (১৮)।

সোমবার (২২ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার ডাক্তারি পরীক্ষা এবং জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মণিরামপুর উপজেলার দিগঙ্গা কুচলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান চলছিল। রোববার (২১ অক্টোবর) ছিল সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জানা যায়, সেদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রী তার বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিল। ঠিক এ সময় সুদীপ মন্ডল, সত্যজিৎ বিশ্বাস, কমলেশ সরকার ও প্রশান্ত মন্ডল ওই ছাত্রীর বন্ধুদের মারপিট করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা স্কুলছাত্রীকে মাছের ঘেরপাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রণব বিশ্বাস বলেন, ওইদিন রাতে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হচ্ছে- মোবাইলে এমন একটি খবর পাই। এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠান স্থলে থাকা লোকজনকে বিষয়টি জানাই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে হাতে নাতে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্যাতিত ছাত্রীর স্বীকারোক্তি ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের কেউ গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here